Your Financial Literacy Starts Here



মোবাইল ব্যাংকিং কি?

Posted: February 19, 2019

একসময় ব্যাংকিং বলতেই আমরা ভাবতাম বুঝি গোমড়ামুখো কয়েকজন মানুষ টেবিলের সামনে বসে মোটা খাতায় বড় বড় সংখ্যা লিখে হিসেব কষছে আর ততোধিক গোমড়ামুখো কয়েকজন মানুষ লাইন দিয়ে দাঁড়িয়ে টাকা পয়সা জমা দিচ্ছে বা গুণে নিচ্ছে। কিন্তু এই একবিংশ শতাব্দীতে যখন লোকের পকেটে পকেটে পৌঁছে গিয়েছে চালাক চতুর সব স্মার্টফোন, তখন কি আর এই মূল্যবান সময় লাইনের পেছনে ব্যয় করার কোন অর্থ হয়? আর এইজন্যেই স্মার্টযুগের স্মার্ট মানুষদের জন্য মোবাইল ব্যাংকিং, যাতে চলতে ফিরতেই সেরে নেয়া যায় অর্থ আদান প্রদানের বোরিং কাজটা, যাতে আমাদের মোবাইল অর্থাৎ চলমান জীবনেরই একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে উঠতে পারে ব্যাংকিং।

আর কয়েক দশক আগেও মোবাইল ব্যাংকিং এর ধারণাটাকে স্রেফ সায়েন্স ফিকশন বলে চালিয়ে দেয়া যেত। কারো কল্পনায়ও ছিল না যে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে ব্যাংকিং এর মত একটি জটিল পদ্ধতিকে সফলভাবে চালিয়ে নেয়া সম্ভব। কিন্তু আজকের এই পৃথিবীতে আমরা দেখতে পাচ্ছি সেটি খুব ভালোমতই সম্ভব। কী এই মোবাইল ব্যাংকিং?

কোন কম্পিউটার ডিভাইস ব্যবহার ছাড়াই তারবিহীন যেকোন ফোনের মাধ্যমে যখন আমরা ব্যাংক থেকে টাকা উত্তোলন, অ্যাকাউন্ট ব্যালেন্স জানা, এটিএম বুথের অবস্থান জানতে পারা এবং বিল পরিশোধ করার মত ব্যাংকিং সম্পর্কিত কাজগুলো করতে পারি তখন সেই পুরো প্রক্রিয়াটিকেই আমরা মোবাইল ব্যাংকিং নাম দিই।

 

কীভাবে কাজ করে এই মোবাইল ব্যাংকিং?

মূলত তিনভাবে কাজ করে মোবাইল ব্যাংকিং পদ্ধতি। বেশিরভাগ ব্যাংকই গ্রাহকের মোবাইল ফোনে এস এম এস পাঠিয়ে ব্যাংকিং এর কাজ সারে। তবে কোন কোন ব্যাংক মোবাইল ওয়েব অর্থাৎ ইন্টারনেটে সেবা দিয়ে থাকে। আবার কিছু ব্যাংক তাদের গ্রাহকদের সেবা দেয়ার জন্য একেবারে আলাদা অ্যাপ ডেভেলপ করে, অ্যান্ড্রয়েড এবং আই ও এস ইউজারদের জন্য আলাদা আলাদা করে। যে পদ্ধতিই ব্যবহার করা  হোক না কেন, এটুকু নিশ্চিত করা হয় যাতে গ্রাহকরা তাদের মোবাইল ফোন দিয়েই এই ব্যাংকিং সেবা নিতে পারেন!

এই তিন পদ্ধতির মাঝে সবচেয়ে সহজ পদ্ধতি হলো এস এম এস পদ্ধতি। গ্রাহক অ্যাকাউন্ট খোলার সময়েই নিজের ফোন নাম্বার ভেরিফাই করে তাদের অ্যাকাউন্টের সাথে যুক্ত করেন। এরপর ব্যালেন্স জানা, টাকা উত্তোলন করা, অন্য অ্যাকাউন্টে টাকা ট্রান্সফার করার মত কাজগুলো ফোন থেকে এস এম এস করেই সেরে নেয়া যায়।

যেমন ধরুন, আপনার ব্যাংকের নিয়মানুসারে আপনি হয়ত BALANCE লিখে একটি নির্দিষ্ট নম্বরে এস এম এস করলেন। ফিরতি মেসেজেই আপনি আপনার অ্যাকাউন্ট ব্যালেন্স জানতে পারবেন। এস  এম এস এর মাধ্যমে মোবাইল ব্যাংকিং এর ক্ষেত্রে আপনার অ্যাকাউন্ট থেকে যেকোন পরিমাণ টাকা উত্তোলন, টাকা ডিপোজিট ইত্যাদি কাজে ব্যাংক এস এম এস এর মাধ্যমেই আপনার কনফার্মেশন নিয়ে থাকে। মোটকথা, নিজের ফোনের এস এম এস চেক করতে জানা যেকোন মানুষের জন্যই সহজ ব্যাংকিং হতে পারে মোবাইল ব্যাংকিং।

যেসব ব্যাংক মোবাইল ওয়েবে সেবা দেয়, তাদের ক্ষেত্রে সকল ইউজারকেই একটি অনলাইন অ্যাকাউন্ট দেয়া হয়। আপনার নিজস্ব পাসওয়ার্ড ব্যবহার করে আপনি আপনার আইডিতে লগ ইন করে ব্যাংকিং এর কাজ সেরে নিতে পারেন।

কিছু ব্যাংক তাদের গ্রাহকদের জন্য অ্যাপ ডেভেলপ করে থাকে। এক্ষেত্রে একই অ্যাপের মধ্যে সুন্দরভাবে সাজানো থাকে বিভিন্ন ব্যাংকিং অপশন। গ্রাহককে শুধু সেবা গ্রহণের সময় কোন পূর্ব নির্ধারিত পাসওয়ার্ডের মাধ্যমে নিজের পরিচয় নিশ্চিত করতে হয়।

গ্রাহকদের জন্য খুবই সুবিধাজনক এই মোবাইল ব্যাংকিং। সবসময় তো আপনার ব্যাংকে গিয়ে লাইনে দাঁড়াবার সুযোগ নাই হতে পারে, তাইনা? তাছাড়া ধরুন কোথাও বেড়াতে গিয়েও তো হঠাৎ করে দরকার হতে পারে টাকার। আর ব্যক্তিগত জীবন বাদ দিয়ে যদি যারা ছোটখাট ব্যবসা করেন, তাদের কথাই ধরি, তাহলে দেখবো একজন ক্লায়েন্টের কাছ থেকে সহজে পেমেন্ট গ্রহণ থেকে শুরু করে ব্যাংকে টাকা জমা করা পর্যন্ত প্রত্যেকটা ধাপ সহজ হয়ে যায় কেবল এই মোবাইল ব্যাংকিং এর জন্য!

আর ব্যাংকগুলোর জন্যেও মোবাইল ব্যাংকিং এক সম্ভাবনার আরেক নাম। গ্রাহকের সাথে ওয়ান টু ওয়ান যোগাযোগ রক্ষা করা সম্ভব হয় এই মোবাইল ব্যাংকিং এর মাধ্যমে। এতে একজন গ্রাহককে ঠিক তেমনটাই সেবা দেয়া সম্ভব হয় যেমনটা সেই গ্রাহকের প্রয়োজন। গ্রাহক হয়রানি কমিয়ে আনা তো যায়ই, সেই  সাথে অপারেশনাল ব্যয়ও কমে আসে অনেকাংশে। কমে যায় পেপারওয়ার্কসও! কাঁড়ি কাঁড়ি কাগজের স্তুপ থেকে বাঁচতে কার না ভালো লাগে, বলুন? আর এই একবিংশ শতাব্দীতে এসে এরকম একটি দক্ষ পদ্ধতিই তো আমাদের চাই!

মোবাইল ব্যাংকিং এর ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত ও আর্থিক তথ্যের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে প্রায়ই। এক্ষেত্রে গ্রাহককে যেমন সতর্ক হতে হবে, তেমনি সতর্ক হতে হবে ব্যাংককেও। নিজের পাসওয়ার্ড, অ্যাকাউন্ট নাম্বার, লেনদেনের তথ্য যেমন অন্য কাউকে জানানো যাবে না, তেমনি সতর্ক থাকতে হবে যাতে নিজের ডিভাইস যে কেউ ব্যবহার করতে না পারে। ব্যাংকেরও উচিত নিজেদের সফটওয়্যার এবং ওয়েবসাইটে সাইবার নিরাপত্তায় সর্বোচ্চ মনোযোগ দেয়া। গ্রাহক সেবার মান বাড়ানোর চেষ্টা করা।

গ্রাহক এবং ব্যাংক, দুইয়ের জন্যই মোবাইল ব্যাংকিং একটি উইন উইন পরিস্থিতি। আমাদের সবার আন্তরিক ব্যবহারই পারে আমাদের মূল্যবান সময়কে বাঁচিয়ে ব্যাংকিংকে একটি আনন্দদায়ক অভিজ্ঞতায় পরিণত করতে। স্মার্ট যুগের স্মার্ট মানুষদের কি আর অ্যানালগ ব্যাংকিং এ মানায়? সময় তো এখন ডিজিটাল হবার, মোবাইল হবার, চলমান হবার, গতিশীল হবার।




Suggested Articles



Social Media Links

social social social