Your Financial Literacy Starts Here



বিশ্ববিদ্যালয় জীবনেই হোক আর্থিক প্রস্তুতি

Posted: February 12, 2019

বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের শুরুটা আমাদের কাছে অনেকটা স্বাধীন জীবনের শুরু এবং অজানা জীবনে পা দেয়ার শিহরণ মিলে বেশ দ্বিধান্বিত একটা সময়। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই এই নতুন পাওয়া জীবনের সাথে তাল মিলাতে গিয়ে আমরা আর্থিক হিসাব নিকাশ করার মত একটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে মনোযোগ দিই না বললেই চলে। আর তাই গ্র্যাজুয়েশন শেষে আমরা পড়ে যাই একেবারে অথই সমুদ্রে। তাই গ্র্যাজুয়েশনের পরে আমরা কীভাবে বৃহত্তর দুনিয়ার সাথে নিজেদের মানিয়ে নেব, সে ব্যাপারে কিছু প্রস্তুতি কিন্তু থাকতেই হয়।

 

আপনি যদি সদ্যই গ্র্যাজুয়েশন শেষ করে থাকেন, তবে নিজের জন্য কিছু লংটার্ম লক্ষ্য ঠিক করে নেয়ার এখনই সঠিক সময়।

আপনি কি একটা বাড়ির জন্য টাকা জমাতে চান?

নাকি অবসরকালীন সময়ের জন্য কিছু বড় অংকের অর্থ আলাদা করে রাখতে চান? আপনার লক্ষ্য পূরণ করতে কেমন পরিমাণ অর্থের প্রয়োজন হতে পারে? এজন্য আপনার আয় কেমন হওয়া উচিত?

 

আপনার মেজর বিষয়ের উপরে নির্ভর করে আপনার সামনে ক্যারিয়ারের বিভিন্ন অপশন খোলা থাকতে পারে। ব্যবসা সংক্রান্ত বিষয়ে পড়াশোনা করে আপনি যেমন যেকোন কর্পোরেট কোম্পানির হয়ে কাজ করতে পারেন, ঠিক তেমনি শুরু করে দিতে পারেন নিজের ব্যবসাও। যে ক্যারিয়ারই বেছে নিন না কেন, ক্যারিয়ার বাছাইয়ে নিজের প্যাশনের পাশাপাশি নিজের আর্থিক লক্ষ্যকেও আমলে নিন।

 

ধরুন, আপনার শখ বিশ্বভ্রমণে যাবার, কিন্তু আপনি এমন একটি ক্যারিয়ার বেছে নিলেন যেখানে আপনি পর্যাপ্ত বেতনই পাচ্ছেন না। আপনার শখ যদি যথেষ্ট তীব্র হয়, আপনি কি সেই ক্যারিয়ারে সন্তুষ্ট থাকতে পারবেন? তাই নিজের আকাঙ্ক্ষিত জীবনযাত্রার মান, নিজের লক্ষ্য ও সেই লক্ষ্য অর্জনে প্রয়োজনীয় অর্থের কথা মাথায় নিয়ে তবেই নির্বাচন করুন নিজের ক্যারিয়ার।

 

বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে পড়তেই একটা সেভিংস অ্যাকাউন্ট খুলে ফেলা হতে পারে খুব ভাল একটা প্রস্তুতি। বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র থাকা অবস্থায়ই আপনি নিকটস্থ কোন ব্যাংকে একটি সেভিংস অ্যাকাউন্ট খুলে কিছু টাকা জমিয়ে ফেলতে পারেন। যতবারই কিছু আয় করছেন, আয়ের একটা নির্দিষ্ট অংশ জমা করে ফেলুন। এতে যে শুধু টাকা জমবে তাই নয়, বরং খুব গুরুত্বপূর্ণ একটা অভ্যাস গড়ে উঠবে আপনার, তা হল সঞ্চয়ের অভ্যাস।

 

অন্যান্য সম্পদের সাথে টাকাপয়সার পার্থক্য হলো, একে অলস বসিয়ে না রেখে কোথাও ইনভেস্ট করলে বিনিময়ে আরো বেশি পরিমাণে ফিরে পাবার একটা সম্ভাবনা থাকে। তাই গ্র্যাজুয়েশনের পরেই কোথাও ইনভেস্ট করতে পারেন কিছু অর্থ। শেয়ার বাজার, স্টক এক্সচেঞ্জ সহ বিভিন্ন খাত আছে টাকা ইনভেস্ট করার। এর মধ্যে কিছু আছে ঝুঁকিপূর্ণ, আর কিছু বেশ নিরাপদ। একটু ঘাঁটাঘাঁটি করে বেছে নিতে পারেন সেই অপশন যেটি আপনার জন্যে সবচেয়ে সামঞ্জস্যপূর্ণ।

 

এছাড়াও মন দিতে পারেন নিজের ক্রেডিট স্কোর বাড়ানোর দিকে। সময় মত বিল পরিশোধ,ক্রেডিট কার্ডের বকেয়া বিল পরিশোধ, ইত্যাদি আপনার ক্রেডিট স্কোর বাড়াতে সাহায্য করতে পারে। কোন বড় অংকের ঋণ থাকলে গ্র্যাজুয়েশনের পরে ক্যারিয়ারের শুরুতেই আস্তে আস্তে সেই ঋণ চুকিয়ে ফেলার দিকে মনোযোগী হওয়া প্রয়োজন।

 

এই যে কাঁড়ি কাঁড়ি উপদেশ দিলাম আপনাদের, এর কোনটাই সফল হবে না যদি না আপনি সাহস করে শুরুই না করেন। শুরু করে দিতে হবে, আর শুরু  করতে হবে আজই। একটি সুপরিকল্পিত আর্থিক পদক্ষেপই সফল করতে পারে আপনার জীবন, আর সেই পদক্ষেপের যাত্রা শুরু হোক গ্র্যাজুয়েশনের সময়েই!


Heres A Video To Help You





Suggested Articles



Social Media Links

social social social