Your Financial Literacy Starts Here



ছাত্র অবস্থায় আয়ের উপায়

Posted: February 05, 2019

আহনাফ পড়ছে বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় বর্ষে। দুই তিন মাসে বন্ধুদের সাথে কোথাও ঘুরতে যাওয়া, বিভিন্ন উপলক্ষ্যে পরিবার বা বন্ধুবান্ধবকে কোন উপহার কিনে দেয়া কিংবা কখনো কখনো স্রেফ নিজের শখের কিছু জিনিস কিনে ফেলার ইচ্ছে প্রায়ই হয় তার। কিন্তু বিধি বাম! এতবড় ছেলে হয়ে কি আর বাবা মার কাছ থেকে টাকা চাইতে ভালো লাগে? আর উপহার দেয়ার কাজটা কি আর চেয়ে নেয়া টাকায় করা সম্ভব? সাধ থাকলেও সাধ্যের অভাবে তাই শখগুলো অপূর্ণই থেকে যায় তার। এমন সময়েই সে ভাবছিলো নিজে কিছু আয়-বাণিজ্যের সন্ধানে যাওয়া যায় কিনা।

 

একজন ছাত্রের প্রফেশনাল স্কিল খুব বেশি থাকার সম্ভাবনা থাকে না। তাই আপনিও যদি আহনাফের সমস্যায়ই ভুগতে থাকেন, তাহলে হয়ত ভাবছেন, “আমি যে আয় করতে চাচ্ছি, আমার তো তেমন কোন চাকরি করার যোগ্যতা নেই। আমাকে কে চাকরি দেবে?” আসলে ছাত্র অবস্থায় আয় করতে চাইলে কিন্তু সেভাবে প্রফেশনাল স্কিলের প্রয়োজন হয় না। প্রয়োজন হয় লেগে থাকার ধৈর্য্য এবং ইচ্ছা।

 

আয় করতে চাইলে প্রথমেই আয়ের সম্ভাবনাময় খাতগুলোর কথা ভেবে নেয়া দরকার।

প্রথমেই একটা তালিকা করে ফেলুন নিজের সম্ভাবনার ক্ষেত্রগুলো।

নিজের কোন শখগুলোকে আয়ের উৎস হিসেবে ব্যবহার করা যায় তাই ভেবে দেখুন প্রথমে। হাতে তৈরি শখের জিনিস, গহনা, বই, ফার্নিচার, এগুলো বর্তমানে বেশ ভালো চলে। আপনার যদি ক্রাফটিং এর শখ থাকে তবে নিজের বানানো শখের জিনিসগুলো বিক্রি করেও আয়ের ব্যবস্থা করতে পারেন। আপনার যদি ছবি তোলার শখ থাকে, তাহলে ছবি তুলেও কিছু টাকা আয় করা সম্ভব। আজকাল অনলাইনে ফ্রীল্যান্স সাইটগুলোতে ফ্রীল্যান্স ফটোগ্রাফারদের কাজের সুযোগ রয়েছে।  আপনার ছবি তোলার শখ হয়ে উঠতে পারে আপনার আয়ের উৎস।

 

অনেকেই আছেন যারা পছন্দ করেন লেখালেখি করতে। ফ্রীল্যান্স সাইটগুলো লেখকদেরও আয়ের সুযোগ করে দিচ্ছে। আপনি যদি লেখালেখিতে ভালো হন তাহলে কিন্তু বিভিন্ন সাইটে আর্টিকেল কিংবা ব্লগ লেখার কাজ করেও কিছু টাকা আয় করে নিতে পারেন ছাত্র অবস্থায়। অনেকে আবার পছন্দ করেন ঘুরে বেড়াতে, নতুন মানুষের সাথে পরিচিত হতে। এরকম মানুষদের জন্য টুরিস্ট গাইড এর পেশা হতে পারে এক ঢিলে দুই পাখি। বিভিন্ন জায়গায় ঘুরে বেড়ানোও হলো, আবার সেই সাথে উপরি হিসেবে কিছু টাকাও আয় হয়ে গেল। ছাত্র অবস্থায় টাকা আয় করতে তাই আপনিও বেছে নিতে পারেন ট্যুরিস্ট গাইড এর পার্টটাইম পেশা।

 

বাংলাদেশী ছাত্রদের জন্য আয় করার সবচেয়ে জনপ্রিয় মাধ্যম হল টিউশন।

মোটামুটি সকলেই ছাত্র পড়িয়ে নিজের হাত খরচ জোগাড় করেন। অনেকে তো আবার বেশ কিছু টাকা জমিয়েও ফেলেন এই টিউশনি থেকে। ছাত্র পড়ানো একদিক দিয়ে যেমন আপনার পুরনো পড়াগুলো ঝালিয়ে নিতে সাহায্য করবে, তেমনি আরেকজন মানুষকে সাহায্য করার তৃপ্তিটাও দেবে আপনাকে। আর নিজের হাত খরচের টাকাটা তো উঠে আসছেই।

 

এসব জনপ্রিয় মাধ্যম ছাড়াও বর্তমানে অনেকেই তাদের কম্পিউটার স্কিল কাজে লাগিয়ে অন্যকে সাহায্য করছেন।

কেউ কেউ কাজ করছেন রিসার্চ অ্যাসিস্ট্যান্ট হিসেবে, কেউ করছেন ইউটিউবিং, কেউ বা আবার কাজে লাগাচ্ছেন তাদের গ্রাফিক ডিজাইনিং এর জ্ঞানটা। কেউ করছেন প্রুফ রিডিং এর কাজ, কেউবা আয় করছেন ওয়েবসাইট ভিজিট করে কিংবা স্রেফ ভিডিও গেমস খেলে। যে কয়টি কাজের কথা বললাম তার সবগুলোই কিন্তু আমরা শখের বশেই করে থাকি। অথচ একটু মাথা খাটালেই এগুলো থেকে ছাত্র অবস্থায় উপার্জন করা সম্ভব।

 

এতক্ষণ তো বললাম কী কী কাজ করে আপনি উপার্জন করতে পারেন। কোন কাজ করবেন তা বেছে নেয়ার পরেও কিছু পদক্ষেপ কিন্তু থেকেই যায়। আপনি কী কাজ করে উপার্জন করবেন, তা বেছে নেয়ার পরেই আপনার সম্ভাব্য গ্রাহক খুঁজতে বেরিয়ে পড়ুন। আপনার সেবা কার প্রয়োজন তা খুঁজে বের করতে হবে আপনাকেই।

 

রাস্তাঘাটে হাঁটতে গেলে মাঝেমধ্যেই “পড়াতে চাই” শীর্ষক বিজ্ঞাপনে আমাদের চোখ আটকে যায়। আপনিও সাহায্য নিতে পারেন এরকমই কোনো অভিনব বিজ্ঞাপন ব্যবস্থার। এছাড়াও অনলাইনে নিজের কমিউনিটির সাথে যুক্ত থাকুন। আপনার যোগ্যতা এবং কাজের ইচ্ছার কথা আপনার পরিচিত মানুষদেরকে জানান। এতে তারা নিজেদের প্রয়োজনে অথবা যে কোন পরিচিত মানুষের দরকার হলে আপনার কাছ থেকে সেবা নেবেন। আর কে না জানে।

আজকালকার যুগে যেকোনো উপার্জন করতে গেলে নেটওয়ার্কিং বড় অস্ত্র।

 

আহনাফের অনেক বন্ধুই কিন্তু নিজের হাত খরচ নিজেই চালায়। কেউ আবার নিজের উপার্জন থেকে বাড়িতেও টাকা পাঠায়। এদের প্রত্যেকেই নিজেদের উপার্জনের ব্যবস্থাটা খুঁজে নিয়েছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়া অবস্থায় একজন ছাত্র কিন্তু প্রাপ্তবয়স্ক হয়েই যায়। এই বয়সেও নিজের প্রয়োজনের বা শখের কোন জিনিস কিনতে বাবা মায়ের উপর নির্ভরশীল থাকাটা কাজের কথা নয়। প্রত্যেক মানুষেরই উচিত নিজের একটা উপার্জনের ব্যবস্থা করে ফেলা।

 

নিজের আয় থেকেই বাবাকে না হয় একটা হাত ঘড়ি কিনে দিলেন, শীতের শুরুতে মাকে কিনে দিলেন  একটি শাল। ছোট বোনকে জন্মদিনে দিলেন তার প্রিয় গল্পের বইটা, বন্ধুর জন্মদিনেও ছোটখাটো কোন উপহার কিনে চমকে দিলেন তাকে। নিজের একটু উপার্জন থাকলে কত শখই না পূরণ করা সম্ভব! তাহলে আর দেরি কেন? নিজের ইচ্ছে মত কিছু একটা বেছে নিয়ে আজই শুরু করে দিন।




Suggested Articles



Social Media Links

social social social