Your Financial Literacy Starts Here



ইমার্জেন্সি ফান্ড

Posted: October 31, 2018

নতুন একটা গাড়ি কিনে আনন্দে ঘুরে বেড়াচ্ছিলেন জাফর সাহেব। কিন্তু সেদিন ঘটলো এক দূর্ঘটনা। গাড়ির পেছন অংশের অনেক পার্টস ভেঙেচুড়ে একাকার। গ্যারেজ মালিক বললেন, গাড়ি মেরামত করতে প্রায় ৩০ হাজার টাকা লাগবে। কিন্তু মধ্যবিত্ত জাফর সাহেব হুট করে এত টাকা কোথায় পাবেন?

শুধু গাড়ি মেরামত নয়, এরকম আরো অনেক ইমার্জেন্সি অবস্থার মধ্যে আপনাকে-আমাকে পড়তে হতে পারে। হঠাৎ করে ধরুন বিদেশের একটা নামকরা ইউনিভার্সিটিতে আপনি সুযোগ পেয়ে গেলেন, অথবা প্রায় অপ্রত্যাশিতভাবেই ,আপনার ল্যাপটপটা নষ্ট হয়ে গেল অথবা শুনতে পেলেন বন্ধুর মা অসুস্থ। এরকম অবস্থায় হাতে একটা বড় অংকের জমানো টাকা থাকলে পরিস্থিতি সামলানো অনেকটাই সহজ হয়ে যায়। আর এজন্যই আপনার থাকা প্রয়োজন একটি ইমারজেন্সি ফান্ড।

 

ইমার্জেন্সি ফান্ড কী?

 

ইমার্জেন্সি ফান্ড হল সেই সেভিংস অ্যাকাউন্ট যেখানে আপনি একটি নির্দিষ্ট অংকের টাকা জমা রাখবেন, যার বিপরীতে ব্যাংক আপনাকে একটি নির্দিষ্ট হারে ইন্টারেস্ট দেবে। যেকোন বিপদ আপদ বা জরুরি অবস্থা মোকাবেলা করতে আপনি এই টাকা কাজে লাগাতে পারবেন।

 

ইমার্জেন্সি ফান্ড গঠনের শুরুতে, আপনি সাধারণ সেভিংস অ্যাকাউন্টে টাকা জমাতে পারেন, যা অনেকটা অল্প অল্প করে টাকা জমানোর অভ্যাস করার মত।সেভিংস অ্যাকাউন্ট থেকেও আপনি প্রয়োজনমত টাকা তুলতে পারবেন। তবে যদি বড় অংকের টাকা রাখতে চান, তাহলে মানি মার্কেট অ্যাকাউন্টে রাখতে পারেন। এক্ষেত্রে আপনাকে ইন্টারেস্টও বেশি হারে দেয়া হবে।

 

ইমার্জেন্সি ফান্ডে রাখার মত টাকা কী করে জমা করবেন?

 

প্রথমেই একটা টার্গেট সেট করে ফেলুন। সপ্তাহে একটা ছোট্ট অংক ধরে নিয়ে মাসে একটা অংকের টাকা জমিয়ে ফেলুন। ভাবুন তো, কী কী উপায়ে টাকা খরচ কমাতে পারেন?

যেমন বাইরে খাওয়া কমিয়ে দিয়ে বাড়িতে তৈরি খাবার  লাঞ্চ এ খেলে আপনার ও আপনার পকেট,  দুজনের স্বাস্থ্যের জন্যই উপকারী!

 

টাকা খরচ করে কনসার্টের টিকেট না কিনে বরং খোঁজ রাখুন ফ্রি কনসার্ট বা মুভি শো এর। টাকাও বাঁচলো, বিনোদনের ব্যবস্থাও হলো! এছাড়াও খোঁজ রাখুন বড় বড় ব্র্যান্ডগুলো কখন মূল্যছাড় দেয়। এই সময়টায় প্রয়োজনীয় জিনিস কিনে রাখতে পারেন।

 

বাড়িতে পড়ে আছে আপনার অনেকদিন আগে কেনা গিটারটা। শেষ পর্যন্ত শেখা হয়নি, এখন আর টুংটাং ও করা হয় না অবসরে। ঘরে ফেলে না রেখে নাহয় অল্প দামে বিক্রিই করে দিলেন! খুঁজলে এরকম আরো অনেক জিনিসই পাবেন আপনার বাড়িতে যা বিক্রি করে আপনি টাকাটা জমাতে পারেন।

 

মাস শুরুর আগেই সে মাসের বাজেট তৈরি করে ফেলুন। কোন খাতে কত টাকা খরচ করবেন, কী কী উপায়ে খরচ করবেন, কত টাকা জমিয়ে আলাদা করে রাখবেন সেগুলো আগেই প্ল্যান করে ফেলুন। এতে অনিয়ন্ত্রিত খরচের পরিমাণটা কমবে।

 

এভাবে জমিয়ে রাখার পরেও অনেক সময় আপনার জমানো টাকা যথেষ্ট নাও হতে পারে। তখন কী করবেন? চেষ্টা করুন এরকম সমস্যার সময়ে বন্ধুবান্ধব বা আত্মীয়-পরিজনের কাছ থেকে ধার করে সমাধান করতে।

 

আত্মীয়-স্বজন বা বন্ধুবান্ধবদের কাছ থেকে ধার না পেলে আপনি আপনার অফিস বা ব্যাংকের দ্বারস্থ হতে পারেন। তবে এক্ষেত্রে অবশ্যই শর্তগুলো পড়ে দেখবেন। নিজের প্রভিডেন্ট ফান্ড,বাড়ি বা বেতনের বিপরীতেও লোন নিয়ে থাকেন অনেকে। যেভাবেই লোন নিন না কেন, কিছু ঝুঁকি কিন্তু থেকে যায়। তাই নিজের আগের লোনের কথা ভেবেচিন্তে সিদ্ধান্ত নেয়া জরুরি।

 

কিছু ছোটখাট অতিরিক্ত খরচ কমিয়ে ফেললে আপনাকে আর জাফর সাহেবের মত কপাল চাপড়াতে হবে না। ভবিষ্যতে কী হবে তা যেহেতু আমরা কেউ আগে থেকে বলতে পারি না, তাই আগে থেকেই অনিশ্চিতের জন্য প্রস্তুত হয়ে থাকা ভালো। ভেবে বের করুন কী কী উপায়ে আপনি আপনার খরচ কমিয়ে ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুত হতে পারেন!

 




Suggested Articles



Social Media Links

social social social