Your Financial Literacy Starts Here



তৈরি করুন ব্যক্তিগত বাজেট

Posted: October 31, 2018

বাজেট শব্দটা শুনলেই আমাদের চোখের সামনে সংসদ অধিবেশনের চিত্রটা ভেসে ওঠে। সংসদ অধিবেশনে বাজেট ঘোষণার অংশটুকু যদি মনোযোগ দিয়ে খেয়াল করেন, তাহলে দেখবেন যে, এখানে পুরো দেশের সারা বছরের আয়-ব্যয়ের হিসেব থাকে। আয়ের কথা বলতে গিয়ে জিডিপি, মাথাপিছু আয়, ইত্যাদি অনেক কঠিন কঠিন শব্দ ব্যবহার করা হয়। সুখবর হচ্ছে, ব্যক্তিগত বাজেটে এসব কঠিন কঠিন ব্যাপার নেই। ব্যক্তিগত বাজেটেও আমরা অনেকটা নিজেদের আয়-ব্যয়ের অংকটা মাথায় রেখে নিজেদের ব্যয় ও সঞ্চয়ের পরিমাণটাকে নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা করি।

 

ব্যক্তিগত বাজেট তৈরিতে আপনার সর্বপ্রথম প্রয়োজন হবে নিজের আয় সম্পর্কে ভালোভাবে ধারণা রাখা। ধরুন, আপনার বেতন স্কেল ১০০০০ টাকা। আপনার অফিস প্রভিডেন্ট ফান্ড বাবদ আপনার কাছ থেকে প্রতিমাসে ৩০০ টাকা কেটে রাখে। অর্থাৎ আপনি ৯৭০০ টাকা তুলে নিয়ে বাসায় যান। তাহলে আপনিই বলুন, আপনি কি আপনার মাসের খরচের হিসেব ১০০০০ টাকা ধরে করবেন নাকি ৯৭০০ টাকা? ট্যাক্স, সোশ্যাল সিকিউরিটি, প্রভিডেন্ট ফান্ড ইত্যাদি বিভিন্ন খাতে টাকা দেয়া সেরে নিয়ে আপনি যত টাকা বেতন হিসেবে বাসায় নিয়ে যান, তত টাকাকেই নিজের আয় ধরে নিয়ে বাজেট করুন।

 

আয় তো হিসেব করলেন। এবার খরচের দিকেও একটু নজর দিতে হবে। বাসা ভাড়া, সন্তানের স্কুলের বেতন, এগুলো তো কমানো সম্ভব নয়। কিন্তু হুট করে দেখলেন বিদ্যুৎ বিল অনেকটা বেড়ে গেছে। ভেবে দেখুন তো, টিভি কি এ মাসে একটু বেশিই চালানো হয়ে গেছে না? কম্পিউটারে প্রয়োজনের বেশি সময় দিচ্ছেন না তো? ঘর হতে বের হবার সময়ে লাইট-ফ্যান অফ করছেন তো? নিজের খরচগুলোর দিকে তাকালেই বুঝতে পারবেন কোন কোন খাতে আপনার বেশি খরচ হয়ে যাচ্ছে।

 

আয় এবং খরচের তালিকা করে ফেলার পরে আপনার লক্ষ্যগুলোর দিকে মনোযোগ দেয়ার পালা। অনেক দিন ধরে নজরে থাকা গাড়িটা কি এবার কিনেই ফেলবেন? নাকি বড় ছেলের উচ্চশিক্ষার জন্য কিছু টাকা জমানোটা বেশি গুরুত্বপূর্ণ? মেয়েকে কথা দিয়েছিলেন ভালো রেজাল্ট করলে ছুটিতে সপরিবারে বিদেশে ঘুরতে যাবেন। সেজন্যও তো টাকা জমানো দরকার! নিজের এই লক্ষ্যগুলোকে স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদি- এভাবে ভাগ করে ফেলুন। প্রতি মাসে একটি নির্দিষ্ট অংকের টাকা নিজের এই লক্ষ্যগুলোর জন্যে জমিয়ে ফেলাটা বুদ্ধিমানের কাজ হবে।

 

আয়, ব্যয়, সঞ্চয় সবকিছুর জন্য টাকা রাখতে গিয়ে একসময় টাকায় যে টান পড়বে, সেকথা আমি হলফ করে বলতে পারি। কী করে  তাহলে সবকিছুর জন্য দরকারি পরিমাণ টাকা জমা করা সম্ভব? এখানেই প্রয়োজন পরিকল্পনার। আপনি রোজ গাড়ি চালিয়ে অফিসে গেলে গাড়ির তেল বাবদ খরচটা একটি প্রয়োজনীয় খরচ। কিন্তু খেলাধুলা বিষয়ক ম্যাগাজিন কেনা আপনার শখের বিষয় হলেও খুব প্রয়োজনীয় নয়। তাই  আগেই পরিকল্পনা করুন কোন খরচগুলো আপনি বাদ দিতে পারেন।

 

খরচ কমাতে নিজের কিছু অভ্যাসের কথাও বিবেচনায় আনতে পারেন। বাসায় ইন্টারনেট সংযোগ প্রয়োজনীয়, তাতে কোন সন্দেহ নেই। কিন্তু সবচেয়ে বেশি গতিসম্পন্ন ইন্টারনেট সংযোগই কি প্রয়োজন? ভেবে দেখুন এবং সেভাবে নিজের খরচ অ্যাডজাস্ট করে নিন।

 

বাজেট ঘোষণার সময় দেখবেন রাষ্ট্রীয় ঋণের কথাও আলোচনা করা হয়। ব্যক্তিগত বাজেট তৈরির সময়েও কিন্তু এই ঋণের কথা মাথায় রাখা উচিত। কোন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের কাছে যদি আপনি ঋণদায়ে আবদ্ধ হন, মাসিক কিস্তিতে যদি কিছু কিনে থাকেন কিংবা ক্রেডিট কার্ডের পেমেন্ট যদি বাকি পড়ে থাকে, তবে তা জমিয়ে না রেখে পরিশোধ করে ফেলুন। পুরো অংকটা একবারে না পারলে শতকরা ৫/১০ ভাগ করে একেক মাসে পরিশোধ করে ঋণের পরিমাণ কমিয়ে আনুন।

 

আস্তে আস্তে নিজের আয়, খরচ ও সঞ্চয়ের পরিমাণ রিভিউ করলেই আপনি একটি দক্ষ বাজেট তৈরি করে ফেলতে পারবেন। নিজের ব্যক্তিগত বাজেট তৈরিতে আপনাকে অর্থনীতি বা ফাইন্যান্সের ছাত্র হতে হবে না, বড় বড় সংখ্যা নিয়ে পেন্সিল কামড়াতে কামড়াতে ক্যালকুলেটরের বোতামও চাপতে হবে না। শুধু প্রয়োজন ইচ্ছা এবং এরকম অল্প কিছু কৌশল। তাহলে আর দেরি না করে আজই বানিয়ে ফেলুন আপনার ব্যক্তিগত বাজেট!




Suggested Articles



Social Media Links

social social social